
নিরালার অভিজাত বাড়িতে ‘মাদক-দেহব্যবসার আসর’!
অভিযানে আটক ৫, মোবাইলে মিলল প্রভাবশালী মহলের সংযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা | ৭ মে, ২০২৬
খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। অভিযানের পর তাদের মোবাইল ফোন ঘেঁটে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর থানার পুলিশ নিরালা আবাসিক এলাকার ১৯ নম্বর রোডের ৬৩৬ নম্বর বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি শামীম আহমেদ নামের এক ব্যক্তির এবং দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে বহিরাগতদের সন্দেহজনক আনাগোনা ছিল।
অভিযানকালে বাড়ি থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ইয়াবার খণ্ডিত অংশ, বিপুল পরিমাণ কনডমসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সঙ্গে থাকা ইয়াবার একটি বড় অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযানের পর বাড়ির মালিক শামীম আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে এমন কর্মকাণ্ড চলছিল— এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছিল এই সিন্ডিকেট।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোন তল্লাশি করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সুমা নামের এক নারীর ফোনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের আলামত মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই চক্রটি শুধু মাদক সেবন বা দেহব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্রের সম্পৃক্ততাও থাকতে পারে। আটককৃতদের কললিস্ট, মেসেজ ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে নেপথ্যের ‘গডফাদার’দের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে আটক ৫ জনকে খুলনা সদর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। আবাসিক এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
Leave a Reply