
আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা!
চেয়ারম্যান পরিচয়ে কোটি টাকার সাম্রাজ্য, ঝিনাইদহে জনতার হাতে আটক কথিত মানবাধিকার নেতা; উদ্ধার ওয়াকিটকি, ভুয়া আইডি ও প্রাইভেটকার
স্টাফ রিপোর্টারঃ মানবাধিকারের নাম, ওয়াকিটকির দাপট, ভুয়া পরিচয়পত্র আর প্রভাবশালী সাজের আড়ালে চলছিল এক অভিনব প্রতারণার সাম্রাজ্য। অবশেষে জনতার হাতে ধরা পড়লেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কথিত চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হাসান। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, ভুয়া পরিচয় গ্রহণ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আটক কাজী মাহমুদুল হাসান (৪২) নিজেকে “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাপ্রদানকারী সংস্থা”-র চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে চাকরি, পদ-পদবি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাদী মোঃ জুসেল, যিনি ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির ঝিনাইদহ জেলা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত, অভিযোগ করেন প্রায় দেড় বছর আগে এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে অভিযুক্ত তাকে “তদন্ত টিমের পরিচালক” পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওয়াকিটকি, আইডি কার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামের কথা বলে ৩১ হাজার টাকা নেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও কোনো সরঞ্জাম দেয়নি। পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে বাদী জানতে পারেন, কথিত মানবাধিকার সংস্থাটির কোনো বৈধ কার্যক্রম বাংলাদেশে নেই।
নাটকীয়ভাবে গত ২০ মে রাতে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়া এলাকায় অভিযুক্তের অবস্থানের খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে – ৩টি ওয়াকিটকি, ১টি হ্যান্ড মাইক্রোফোন, “HUMAN RIGHTS” লেখা কটি, ক্যামেরা ট্রাইপড, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে তৈরি ১২টি আইডি কার্ড, দুইটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিমকার্ড, এবং ঢাকা মেট্রো-গ-২৪-৭৯৮০ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওয়াকিটকি ও মানবাধিকার পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাকে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি মনে করতেন। সেই সুযোগেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ও আইনি সহায়তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে প্রকৃত মানবাধিকারকর্মীদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯ ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার তদন্ত করছেন ঝিনাইদহ সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম।
ঘটনাটি এখন ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
Leave a Reply