1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মামাতো ভাইকে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল স্টাফ রিপোর্টার, 
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ১ Time View

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মামাতো ভাইকে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল

স্টাফ রিপোর্টার,

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জের ধরে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও অভিযানে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত জোবায়েদ (২৬) এবং গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রানা (৩৮) সম্পর্কে মামাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রানার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সঙ্গে জোবায়েদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা পরকীয়ার সম্পর্কে রূপ নেয় বলে অভিযোগ উঠে।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পারেন রানা। এরপর স্ত্রী ও জোবায়েদকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য সতর্ক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হলে জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পান। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভ ও অপমানবোধ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঈদের পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ধারালো দা সংগ্রহ করে রানা কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়ার শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজের কাছে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা জোবায়েদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রাম থেকে প্রধান আসামি রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে স্বল্প সময়ে গ্রেপ্তার করতে পারায় স্থানীয়দের মধ্যেও পুলিশের তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Design By BDit.com.bd