জেল ফেরত শিক্ষক, প্রশ্নে শিক্ষা প্রশাসন
হাসিনজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেছেন এক সহকারী শিক্ষক। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল রানা ঢাকায় ভিজিল্যান্স সার্ভে কমিশনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগে আটক হন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০ জুন ২০২৬ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারার মামলায় তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ওই শিক্ষক কর্মস্থলে যোগ দেন এবং টানা দুই দিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে এলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলায় কারাগারে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন শিক্ষক পুনরায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সুযোগ পেলেন? তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।