
বিভ্রান্তি এড়িয়ে সতর্ক বিএনপিঃ চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা এখনো শূন্য, চলছে প্রাথমিক প্রর্যায়ে যাচাই-বাছাই।
প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন এর বিশেষ প্রতিবেদন।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনের পাশাপাশি নারী প্রার্থীগণের কোটা পূরণ সহকারে আসন্ন ত্রয়োদশ ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন পুরোদমে নির্বাচনী তৎপরতায় মনোনিবেশ করলেও, চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে দলটি কঠোর সতর্কতা বজায় রেখেছে। সাংগঠনিক ভাবে বিএনপি এখনো কোনো প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেয়নি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তালিকা নিয়ে দলীয়ভাবে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভুয়া তালিকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানঃ- দলীয় সূত্রগুলো পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণকে এ ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য বিশ্বাস না করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের বিভ্রান্তি দ্রুত নিরসন করা জরুরি।
২ শতাধিক আসনে মনোনিবেশ সহ দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ৬০-৭০ টি আসন রয়েছে।
বিএনপি এখন ৩০০টি আসনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
প্রাথমিক আলোচনায় থাকা কিছু উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থীঃ-
* মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর নিজ আসন ঠাকুরগাঁও-১ (পাশাপাশি ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আগ্রহী)।
* মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮) ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস (ঢাকা-৯)।
* গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরী (ঢাকা-৩)।
* বরিশাল-২ আসনে এস সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু), দুলাল হোসেন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, কাজী রওনাকুল ইসলাম।
* ঝালকাঠি-২ আসনে মাহবুবুল হক (নান্নু) ও ইলেন ভুট্টো।
তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং একাধিক শক্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীর কারণে ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রার্থী নির্ধারণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জোটের শরিকদের আসন বণ্টনেও জটিলতা রয়েছে।
নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে কোটা পূরণে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিঃ- বিএনপি এবার জাতীয় সংসদে মোট প্রার্থীর কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, ৩০০ আসনে কমপক্ষে ১৫ জন নারী প্রার্থী দিতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে, দলের নীতিমালায় কিছু ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে।
বিশেষ বিবেচ্য বিষয় হলো এক পরিবারে এক প্রার্থীর যে কঠোর সিদ্ধান্ত ছিল, নারী প্রার্থীর কোটা পূরণের স্বার্থে এবার তার ব্যতিক্রম হতে পারে। এর ফলস্বরূপ, এক পরিবারে একাধিক প্রার্থীর (যেমনঃ মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস) মনোনয়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা প্রর্যন্ত সকলের প্রতি ধর্য্যধারণ পূর্বক অপেক্ষা করার আহবানঃ- দলীয় সূত্রমতে, সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিএনপি এক বা একাধিক ধাপে তাদের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করবে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, দল ততই জোট শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘সবুজ সংকেত’ দিতে শুরু করবে।
সর্ব পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক পরিশেষে, দলটির একমাত্র বার্তা হলো- বর্তমানে প্রচারিত কোনো তালিকা বিশ্বাস না করে, দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই হবে সঠিক তথ্য জানার একমাত্র পথ।
Leave a Reply