1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

মোংলায় তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ডুবল ১২০০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো

ম. ম. রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ সময়

মোংলায় তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ডুবল ১২০০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো

 

ম. ম. রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট

 

পশুর নদীতে এমভি ফুলবাড়ী ডুবি, প্রাণে বাঁচলেন ৯ কর্মী; মূল চ্যানেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক।

 

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সুন্দরী কোঠা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী। দুর্ঘটনার সময় জাহাজটিতে থাকা ৯ জন কর্মী সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন। ফলে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জাহাজডুবির খবর ছড়িয়ে পড়লে মোংলা বন্দর ও পশুর নদীতে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া কার্গোটি মূল নৌচ্যানেলের বাইরে থাকায় বন্দরের চ্যানেল নিরাপদ রয়েছে। ওই পথে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

 

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

 

দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজের কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার দিকে আসছিল এমভি ফুলবাড়ী। জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল।

 

পথে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে কার্গো জাহাজটির ধাক্কা লাগে। এতে জাহাজটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে নদীতে ডুবে যায়।

 

দুর্ঘটনার সময় কার্গোতে থাকা ৯ জন কর্মী দ্রুত সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে উঠে নিজেদের রক্ষা করেন। তাঁদের কেউ হতাহত হয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

ডুবে যাওয়া এমভি ফুলবাড়ী জাহাজটি আইআরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। জাহাজটিতে থাকা কয়লা ঢাকার বাদামতলায় নেওয়ার কথা ছিল।

 

উদ্ধার ও জাহাজ তোলার উদ্যোগ

 

জাহাজডুবির পর সেটি উদ্ধারে মালিকপক্ষের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দ্রুত ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

তবে জাহাজটি উদ্ধারে ঠিক কখন অভিযান শুরু হবে, কত সময় লাগতে পারে এবং উদ্ধারকাজে কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

একইভাবে দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, পশুর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এ চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

 

বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় আপাতত বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

 

তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি দীর্ঘ সময় নদীতে পড়ে থাকলে নৌযান চলাচলে ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে জাহাজটির অবস্থান, নদীর নাব্যতা ও উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর।

 

কয়লা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে নজরদারি জরুরি

 

পশুর নদী মোংলা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই নদী দিয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। সুন্দরবনসংলগ্ন এ নদীর পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে।

 

কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর নদীর পানিতে কয়লা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। কয়লার পরিমাণ, প্রকৃতি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়ার মাত্রার ওপর সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করতে পারে। তবে এ ঘটনায় নদীর পানি বা জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয়েছে—এমন কোনো পরীক্ষালব্ধ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এ কারণে ডুবে যাওয়া জাহাজের অবস্থান পর্যবেক্ষণ, কয়লা উদ্ধার এবং সম্ভাব্য দূষণ যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকেরা।

 

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি

 

তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কায় কয়লাবোঝাই কার্গো ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় দুই জাহাজের অবস্থান, চলাচলের দিক, গতি এবং নৌপথে চলাচলসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

 

তবে দুর্ঘটনার জন্য কোন জাহাজের কী ধরনের দায় রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

 

মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

 

সর্বশেষ পরিস্থিতি: মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল চ্যানেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ডুবে যাওয়া এমভি ফুলবাড়ী ও এর ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লা উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd