মৃত্য বিলাস
-মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী
ডুপ্লেক্সের নিচতলায় সন্ধ্যা নামে,
ওপরতলায় রাত—
মাঝখানের সিঁড়িতে বসে থাকে
একজন মানুষের না-বলা কথার ভার।
ঝাড়বাতি জ্বলে।
মার্বেলের মেঝেতে আলো পড়ে।
শুধু দরজা খুলে কেউ বলে না—
“এত দেরি হলো কেন ফিরতে?”
ডাইনিং টেবিলে ছয়টি চেয়ার,
খাবার সাজে একটির সামনে।
খেতে খেতে সে মাঝে মাঝে
অন্য চেয়ারগুলোর দিকে তাকায়—
যেন কেউ একটু পরেই এসে বসবে,
যেন ভাতের পাত্রটা এগিয়ে দিতে হবে।
তারপর নিজের হাতেই
নিজেকে পানি ঢেলে দেয়।
এত বড় বাড়িতে
তার কাশির শব্দ দুবার শোনা যায়—
একবার বুক থেকে,
আরেকবার দেয়াল থেকে ফিরে আসে।
দ্বিতীয় শব্দটুকুকেই সে
কিছুক্ষণ সঙ্গ বলে ভুল করে।
ফোনের পর্দা নিভে গেলে
ঘরটা আরও বড় হয়ে যায়।
সে পুরোনো কথোপকথন পড়ে—
যেখানে একদিন কেউ লিখেছিল,
“পৌঁছালে জানিয়ো।”
এখন সে প্রতিদিন পৌঁছায়।
কাউকে জানানো হয় না।
এক রাতে বিছানার খালি পাশটায়
হাত রেখে ভাবে—
শেষ দিনটাও কি এমন হবে?
নিচে আলো জ্বলবে,
ওপরে পর্দা নড়বে,
ঘড়ি ঠিক সময় জানাবে—
শুধু তার থেমে যাওয়া
কারও সময়ে ধরা পড়বে না?
ভাবনাটার নাম দেয় সে—
“মৃত্য বিলাস।”