
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন অপেক্ষার অবসান ঘুচিয়ে আগামীকাল দেশে ফিরছেন তারেক রহমান- উৎসবের নগরী এখন ঢাকা।
প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন এর বিশেষ নিউজ প্রতিবেদন।
ঢাকা-২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
দীর্ঘ এক যুগ সাত বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামিকাল ২৫শে ডিসেম্বর প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে প্রস্তুত এখন পুরো দেশ। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার প্রহর শেষ করে ‘আগামীর রাষ্ট্রনায়ক’ খ্যাত এই নেতাকে বরণ করে নিতে রাজধানী ঢাকা এখন যেন এক উৎসবের জনপদ।
লন্ডনের হিথ্রো থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর এ এক ঐতিহাসিক যাত্রা:- লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আজ ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন তারেক রহমান। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্রে দেখা গেছে, বিমানে ওঠার আগ মুহূর্তে তাঁর চোখে-মুখে ছিল স্বদেশে ফেরার এক অদম্য দ্রুতগামীতার তৃপ্ত আবেগ। আগামিকাল দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে বিমানবন্দর ও ৩০০ ফিট এলাকা:- প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং বরণ করে নিতে সারাদেশ থেকে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীতে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চারপাশ এখন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত। নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে বিমানবন্দর এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ডিএমপি।
নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এখন রাজধানীর ৩০০ ফিট (জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে) এলাকা। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে এক সুবিশাল ও রাজকীয় সংবর্ধনা মঞ্চ। রঙ্গিন ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত হয়ে অপেক্ষমাণ জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো রাজধানী:- তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকেও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখা হয়েছে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।
রাজনীতিতে এ এক নতুন মাইলফলক:- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে তাঁর সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ দলের তৃণমূল পর্যায়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
সকল শ্রেণীর নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একজন নেতার ঘরে ফেরা নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক পাক্ষিক বিজয়ের প্রতীক। আগামীকালকের এই দুপুরটির জন্য শুধু বিএনপি নয়, তাকিয়ে আছে গোটা আগামীর বাংলাদেশ।
Leave a Reply