
ঝালকাঠিতে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
শংকর দাস পবন, ঝালকাঠি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, এবারের নির্বাচন দেশের পূর্ববর্তী সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে কি না—এমন প্রশ্ন তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। কারণ, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা রাজনৈতিক দলগুলিই এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এবং সনদ বাস্তবায়নের দায়ভারও তাদেরই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি পৌর শিশু পার্কে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ফরিদা আখতার বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু কোনো একটি পক্ষের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু কাউকে সংসদে পাঠানোর জন্য ভোট দেবেন না। এমন ব্যক্তিকেই ভোট দেবেন, যিনি নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম করবেন না, স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন না এবং ক্ষমতায় গিয়ে আঠার মতো লেগে থাকার চেষ্টা করবেন না।” তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমেই ন্যায়, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
ঝালকাঠির নামের উৎপত্তি জেলেদের নাম থেকে এসেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ঝালকাঠির গর্বের সন্তান শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন বাংলাদেশের একটি মূল্যবান সম্পদ। তিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি কখনো ক্ষমতার প্রদর্শন করেননি; বরং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট চেয়েছেন।
তিনি বলেন, হাদীর জানাজায় যে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে কোনো উচ্চ পদে না থেকেও একজন মানুষ কতটা ভালোবাসা অর্জন করতে পারেন। তিনি এমপি হননি কিংবা কোনো বড় পদেও যাননি, তবুও দেশের প্রতি তাঁর চিন্তা ও অবদানের কারণে মানুষ তাঁকে ভালোবেসেছে। হাদী ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, যাঁকে সংসদে প্রয়োজন ছিল। তাঁর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে হলে এবারের নির্বাচনকে অবশ্যই সুস্থ, অবাধ ও সুন্দর করতে হবে।
হাদী হত্যার প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, এই হত্যার বিচার অবশ্যই হবে এবং সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে অনেক জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কেউ চোখ হারিয়েছেন, কেউ হাত কিংবা পা হারিয়েছেন। জনগণ ও তরুণ সমাজ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে, তার বিপরীতে গিয়ে কিছু করার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় বলেন, এবারের নির্বাচন অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হবে। এই নির্বাচনের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। কারণ, যেসব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তারাই এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সনদে স্বাক্ষর করার অর্থ হলো—তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদেরই।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন এবং জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আলম হোসেন। সমাবেশে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply