
দাঁড়িপাল্লার রাজনীতি স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা বর্তমানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছেন, তারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই সময় তাদের কর্মকাণ্ডের কারণেই দেশের মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল, লুটপাট ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যে ভয় ও শঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তা দূর করা হবে। তিনি বলেন, “এই দেশ যেমন মুসলমানদের, ঠিক তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়েরও। নাগরিক অধিকার প্রশ্নে এখানে কেউ ছোট-বড় নয়—সবাই সমান।”
একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কেউ এসে স্বাধীনতা উপহার দিয়ে যায়নি। আমরা নিজেরাই যুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত করেছি। এই দেশ ছেড়ে আমরা কোথাও যাইনি, ভবিষ্যতেও যাবো না—নিজেদের অধিকার আদায় করেই থাকবো।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে—ভিন্ন মতের কারণে পরবর্তীতে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এই ভয়কে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধানের শীষের মানুষ অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাল্লাহ।”
তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যা মা-বোনদের জন্য শক্তিশালী সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গণসংযোগের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
Leave a Reply