
দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়: সরাসরি শিপিং নিয়ে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ ঐকমত্য
মোহাম্মদ মাহামুদুল মালদ্বীপ প্রতিনিধি। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করতে সরাসরি শিপিং সংযোগ চালুর বিষয়ে উভয় দেশ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এ লক্ষ্যে মালদ্বীপে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু এবং হালাল খাদ্য শিল্পে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরাসরি শিপিং চালু হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, বাণিজ্য সহজ হবে এবং বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU)। এ বিষয়ে হাইকমিশনার আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
হাইকমিশনার বলেন, সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু হলে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা বাড়বে এবং এর সুফল রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ভোক্তারা প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করবেন।
একই সঙ্গে বৈঠকে হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল সার্টিফায়েড প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয় ও প্যাকেটজাত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার এ খাতে বিনিয়োগ, সরবরাহ চেইন উন্নয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন সরাসরি শিপিং উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি কার্গো পরিবহনে মালদ্বীপের বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী অতীতের এক সংকটকালে মালদ্বীপে বাংলাদেশের সুপেয় পানি সরবরাহ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, হাইকমিশনার আগামী মার্চ ২০২৬ থেকে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স’-এর বাংলাদেশে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগকে স্বাগত জানান, যা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ সরাসরি শিপিং, বাণিজ্য সহজীকরণ, হালাল খাদ্য শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং পরিবহন সহযোগিতা জোরদারে পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই আলোচনা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
Leave a Reply