1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সরাইলের বাড়িউড়ায় ১৪ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

মোঃআব্বাস উদ্দিন:জেলা প্রতিনিধি(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৬ সময়

সরাইলের বাড়িউড়ায় ১৪ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

 

মোঃআব্বাস উদ্দিন:জেলা প্রতিনিধি(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে

ওয়াজ শুনতে যাওয়ার পথে অপহরণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী; অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে গুরুতর অসুস্থ কিশোরী বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় ওয়াজ শুনতে যাওয়ার পথে ওই কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। এজাহারে বলা হয়েছে, আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে বাড়িউড়া লাউয়ের খালের রাস্তার পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা। এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বাড়ির পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তদের একজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৫ অক্টোবর তাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ভিকটিম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা সমেলা সরাইল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। এজাহারে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় তদন্তসাপেক্ষ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকী। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর মেয়ের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের দাবি, সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার মতো মানুষের অভাব ছিল। পরবর্তী সময়ে সংবাদকর্মীদের উদ্যোগে ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, এখন ঘটনাটি নিয়ে সমঝোতার নামে কিছু ব্যক্তি বাড়িতে যাতায়াত করছেন। তবে এ বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সমঝোতার নামে কোনো অনৈতিক লেনদেন বা চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি কিংবা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার মাধ্যমে যেন ন্যায়বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, বাড়িউড়া গ্রামের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান। তদন্তের অগ্রগতি, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার অবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা একটি কিশোরীর বিরুদ্ধে সংঘটিত এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পরিচয়, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা জরুরি। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করবে, পলাতক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পাবে। অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd