1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

সমাজ শুধু শিক্ষকের ছুটি দেখে, পরিশ্রম দেখে না 

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ০ Time View

সমাজ শুধু শিক্ষকের ছুটি দেখে, পরিশ্রম দেখে না

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ শিক্ষকদের রাত জেগে খাতা দেখা শুরু করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি থাকলেও শিক্ষকরা মানুষিক ও পেশাগত ভাবে সব সময় সক্রিয় থাকেন। নির্বাচনী ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের হাতে দেবার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষকের দায়িত্ব কখনো বন্ধ থাকে না। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষকদের কাজের কোন শেষ নেই। নির্বাচনী, বার্ষিক পরীক্ষার খাতা

মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরি করে শিক্ষকরা রাত জেগে নিরব পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের এ সব পরিশ্রম কেউ দেখেন না, উপলব্ধি করেন না। অনেকই মনে করে থাকেন স্কুল বন্ধ, শিক্ষকদের কোন কাজ নেই। এ সব কথা শিক্ষকতার পরিশ্রমকে ছোট করে ফেলা হয়। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষকের দায়িত্ব কখনো বন্ধ থাকে না। শিক্ষকেরা রাত জেগে খাতা দেখে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য গড়ার জন্য দিন, রাত পরিশ্রম করছেন।

পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত স্কুল এন্ড কলেজের গনিতের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, শিক্ষকদের গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খাতার মূল্যায়ন করতে হয়। খাতা মূল্যায়নের সময় শিক্ষার্থীদের কোথায় ভুল করেছে তা চিহ্নিত করতে হয়।

ইংরেজি শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষকরা শুধু খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ করেন না। সেই সাথে সঠিক নাম লিখা, রোল নম্বর লেখা, গড় নম্বর বের করা, গ্রেড নির্ধারন করে ফলাফল প্রকাশের জন্য নথি তৈরী করতে হয়।

পলাশ থানা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সবিতা রানী সূএধর জানান, পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে যায় কিন্তু আমি রাত জেগে খাতা দেখি। আমার ছোট মেয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। শিক্ষককে খাতা দেখার দায়িত্ববোধের কারনে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আমার মেয়ে আদর থেকে বঞ্চিত।

হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক নাজমুল শাহীন জানান, পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে যায় কিন্তু আমাকে রাত জেগে খাতা দেখতে হয়। খাতা দেখে সময়মত স্কুলে ফলাফল জমা দিতে হবে । শিক্ষকদের স্কুল বন্ধের মধ্যে ও এ রকম মানুষিক চাপ অন্য পেশার মানুষ বুঝে না। সবাই মনে করেন স্কুল বন্ধ শিক্ষকদের কোন কাজ নেই।

নির্বাচনী পরীক্ষা কিংবা বার্ষিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন কাগজে কলমে যত সহজ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে তার চেয়েও কঠিন। শিক্ষক কিভাবে নিজের সন্তনকে সময় না দিয়ে রাত জেগে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছেন। একজন শিক্ষক কমপক্ষে ৫ শত খাতা থেকে শুরু করে সাড়ে ৬ শত খাতা দেখে থাকেন। যে সকল স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজার থেকে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেই সকল স্কুলে শিক্ষার্থীর চাপ বেশি থাকে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে স্কুলে আলোচনা সভা,১৬ ডিসেম্বর স্কুলে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বন্ধ, শীতকালীন অবকাশ, যিশু খিষ্ট্রের জন্মদিন ছাড়াও এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করতে বন্ধের মধ্যে কমপক্ষে ২ দিন স্কুলে যেতে হয়। কাগজে কলমে স্কুল বন্ধ থাকলেও এ সময় শিক্ষকের ব্যস্ততা,পরিশ্রম বেশী হয়।

শিক্ষকের সম্মান জাতির অগ্রগতির

জন্য অপরিহার্য। শিক্ষক একটি জাতিকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন। ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ শিক্ষকের কাছেই শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। অথচ সেই শিক্ষকের সম্মান দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরাই পারে জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। স্কুল বন্ধ মানেই শিক্ষা বন্ধ নয়। স্কুল বন্ধ মানেই শিক্ষকের দায়িত্ব শেষ নয়। কাগজে কলমেই শুধু শিক্ষকের বন্ধ। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, নৈতিকতা, মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Design By BDit.com.bd