
নির্বাচন করবেন না কাজী সালিমুল হক কামাল
নিজস্ব প্রতিনিধি
খন্দকার নজরুল ইসলাম মিলন
আর কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি ও মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল। আজ শনিবার তার নিজ ফেসবুকে আইডিতে একটি পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছে তিনি।
এর আগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরার দুটি আসন থেকে “মাগুরা-১ ও মাগুরা-২” থেকে সালিমুল হকের পক্ষে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
শালিখা উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দরা দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে কাজী সালিমুল হক নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আগামীকাল বৈঠক আহ্বান করেছি। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান । তবে দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেই বিএনপি করছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।
কাজী
সালিমুল হক কামাল তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, দীর্ঘ সাত বছর কারাবাসে আমি থাকাই আমার পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের একান্ত অনুরোধে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর গ্রহণ করছি। জীবনের বাকি সময়টুকু পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে কাটাতে চাই।
বিএনপি’র স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামাল ১৯৯৪ সালে বহুল আলোচিত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ঐ উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরে বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সংসদে বিল পাস করে। এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও মাগুরা-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজী সালিমুল হক কামাল নিজেও আসামি ছিলেন। এ মামলায় ২০১৭ সাল থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে কারামুক্ত হন।
দীর্ঘ বিরতির পর গত ডিসেম্বরে মাগুরার রাজনীতির মঞ্চে ফেরেন কাজী সালিমুল হক। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় একাধিক বড় বড় সমাবেশ করেন তিনি। তাঁরা দুজনই এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাঁকে এ আসনে মনোনয়ন দেয় দলটি।
বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাগুরার বিএনপি’র দুটি ধারায় বিভক্ত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাগুরা-২ আসনে একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী। অপর অংশের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী সালিমুল হক কামাল ও যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন। আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে নিতাই রায় চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর এর বিরোধিতা করে বিএনপি’র একটি অংশ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। গত ১৮ নভেম্বর শালিখায় ওই অংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তবে তার অনুসারীদের বলেন আমাদের দাবির মুখেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হাওয়াই পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
Leave a Reply