
দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় এই জেলার নদ-নদীসংলগ্ন গ্রামগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত নিবারণে গভীর রাত পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে মানুষকে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরো কমবেশি হতে পারে।
হাড় কাঁপানো শীত ও হিমেল বাতাসে সাতক্ষীরার জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে অনেককে বাইরে বের হতে হচ্ছে।
কেউ মাঠে কৃষিকাজ করছেন, কেউ আবার ভ্যান বা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। গরম কাপড়ের অভাবে তারা প্রচণ্ড শীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই লতাপাতা ও খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
মাঝে মাঝে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামছুর রহমান তীব্র শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে এবং ভোরে বাইরে বের করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশুদ্ধ পানি পান করানো এবং ঠাণ্ডাজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই ধরনের সতর্কতা বয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
Leave a Reply