
নগরকান্দার শাকপালদিয়ায় যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ ১৮ দুষ্কৃতকারী আটক
মোঃ টোকন শেখ ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত শাকপালদিয়া এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ ১৮ জন দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়েছে।অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ১টি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, ১টি ১২ গেজ কার্তুজ, ১০টি ঢাল, ৭টি বর্শা, ৮টি কাস্তে, ৬টি রামদা, ৫টি ছোট ছুরি, ৪ কেজি গাঁজা, ১০২ পিস ইয়াবা, ৬টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ১টি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।
সেনা সূত্রে জানা যায়, চলতি জানুয়ারি ২০২৬ মাসে নগরকান্দা উপজেলায় তিনটি মরদেহ উদ্ধার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার মতো একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারি, জুয়াড়ি চক্র গ্রেপ্তার এবং ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ফলে এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২২ জানুয়ারি ভোর রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শাকপালদিয়া এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রি এবং আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নগরকান্দা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. সহিদ মোল্লা (৬৫), মো. শহিদ মোল্লা (৬৬), সিয়াম শেখ (১৫), মো. পারভেজ ফকির (২৫), মো. নাজমুল (২৩), আয়মান আশরাফ (১৫), মো. ইয়াসিন মোল্লা (১৬), মো. আজিম মোল্লা (২৭), মো. শাজাহান শেখ (৩৬), মো. রবিউল মোল্লা (৩০), মো. ইদ্রিস মোল্লা (৪২), আলেয়া বেগম (৩৮), তামান্না আক্তার (২০), মনিরা আক্তার (৩৫), রুনা আক্তার (২২), নাদিয়া বেগম (৩২), নূরজাহান (৬০) ও জয়নব বেগম (৬০)। সবাই শাকপালদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আটককৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তীতে নগরকান্দা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেনা সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকল সচেতন নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply