
মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের দীর্ঘদিনের গ্রুপিং ভুলে এক মঞ্চে দুই পক্ষ
বিশেষ প্রতিনিধি আশিষ কুমার সাহা
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা আর অভ্যন্তরীণ বিভেদ পেছনে ফেলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে মাগুরা-২ আসনের (মহম্মদপুর-শালিখা) বিএনপি। সাবেক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও রবিউল ইসলাম নয়ন গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মহম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক এক সম্প্রীতি সমাবেশ।
শনিবার সকালে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে আয়োজিত এই সমন্বয় সভায় সকল গ্রুপিংয়ের অবসান ঘোষণা করে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার শপথ নেন দুই বলয়ের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আমি দলের মধ্যে কোনো বিভক্তি চাই না, সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। যার যে মর্যাদা তাকে সেই জায়গায় রাখা হবে। আজ থেকে আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই; আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ধানের শীষের বিজয় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব ও মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা এস এম রবিউল ইসলাম নয়ন।
নয়ন ও কামালের অনুসারীরা এদিন প্রকাশ্যে নিতাই রায় চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। বক্তারা বলেন, দেশের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অতীতের সকল তিক্ততা ভুলে এখন রাজপথে থাকার সময়।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, মহম্মদপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তারুজ্জামান, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এ্যাড. রোকনুজ্জামান ও পিকুল খাঁন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাবুল, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. রুইচ উদ্দীন ও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস এম ইউনুস আলী সরদার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সদস্য আশরাফুজ্জামান রিংকু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির এই নাটকীয় ঐক্য মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। গ্রুপিংয়ের অবসান হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ধানের শীষকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
Leave a Reply