
নতুন বস্তার নামে পুরনো বস্তা সরবরাহ
খুলনায় খাদ্য বিভাগের বস্তা ক্রয়ে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :দৈনিক ঢাকার সময়
খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্য বিভাগের জন্য নতুন বস্তা ক্রয়ের নামে পুরনো ও নিম্নমানের বস্তা সরবরাহ করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্য গুদামগুলোতে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যা খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাদ্য বিভাগের জন্য নতুন বস্তা ক্রয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব বস্তা প্রথমে জেলা খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হয় এবং সেখান থেকে বিভিন্ন উপজেলা গুদামে পাঠানো হয়। তবে নতুন বস্তার সঙ্গে পুরনো ও ব্যবহৃত বস্তা মিশিয়ে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো বস্তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলাইপুর খাদ্য গুদামে ৫০ কেজির প্রায় ৫০ হাজার পিস বস্তা, তেরখাদা খাদ্য গুদামে ৫০ কেজির ১০ হাজার পিস ও ৩০ কেজির ২০ হাজার পিস বস্তা এবং ফুলতলা খাদ্য গুদামে প্রায় ৫০ হাজার পিস বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, অন্যান্য উপজেলাতেও মানহীন নতুন বস্তার সঙ্গে পুরনো বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে।
এছাড়া মংলা সাইলো ও মংলা জাহাজ থেকে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অনুপযোগী ২৫ হাজার পিস ৫০ কেজির বস্তা এবং ১০ হাজার পিস ৩০ কেজির বস্তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বস্তার গায়ে লেখা ‘বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান আলকাতরা দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। অনেক বস্তায় উৎপাদন সাল ২০২২ লেখা রয়েছে, যা নতুন বস্তা হিসেবে সরবরাহের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সূত্র জানায়, টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হয় প্রায় তিন মাস আগে। সে সময় টেন্ডার কমিটির প্রধান ছিলেন বর্তমান ডিসি ফুড এবং খুলনার ফুলতলার সহকারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। বস্তা ক্রয়ের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশ মিশা চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
বর্তমানে সরকারি হিসাবে নতুন ৩০ কেজির বস্তার দাম প্রতিপিস ৫০ টাকা হলেও পুরনো বস্তার বাজারমূল্য ১৮ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে ৫০ কেজির নতুন বস্তার সরকারি দর প্রতিপিস ৯০ টাকা, অথচ পুরনো বস্তার দাম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ ব্যবধান থেকেই কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয়ক কমিটির সভাপতি খালিদ হোসেন বলেন, “বস্তা কেনার নামে কোটি টাকার অপকর্ম করা হয়েছে। নতুন বস্তার আড়ালে পুরনো ও ব্যবহৃত বস্তা কেনা হয়েছে, যা খাদ্য সংরক্ষণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।”
এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিপুল পরিমাণ বস্তা একসঙ্গে সরবরাহ হওয়ায় সব বস্তা দেখে বুঝে নেওয়া সম্ভব হয় না। টিসিএফের খাদ্য ব্যবস্থাপক জানান, সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বস্তা পরীক্ষা করে গ্রহণ করা হয় এবং সমস্যা ধরা পড়লে তা রিপ্লেস করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তেরখাদায় ভিডিও ধারণের মাধ্যমে পুরনো বস্তার বিষয়টি জানানো হলে সেগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে।
খাদ্য কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “এত বেশি বস্তা একসাথে যাচাই করা কঠিন। তাই ধারাবাহিকভাবে বস্তা পরীক্ষা করে সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Reply