
কেন্দুয়া থানায় ২০ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় পঙ্গু ৫ গ্রাম:অনাবাদি শত একর জমি, বিপর্যস্ত কৃষি-মৎস্য খাত
মোঃ আব্দুল আউয়াল খান
স্টাফ রিপোর্টর
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের কৈজুরি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য খাত কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৈজুরি বিলের প্রায় ১০০ একর জমির মধ্যে প্রায় ৪০ একর জমি গত দুই দশক ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। বাকি জমিতেও ফসল উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই অকাল জলাবদ্ধতায় ধানের জমি ডুবু অবস্থায় রয়েছে। ফলে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা।
দরিদ্র কৃষক সবুজ মিয়া জানান,
“এই বিলে আমার ১০ কাঠা জমি আছে। কিন্তু ২০ বছর ধরে কোনো ফসল তুলতে পারছি না। সংসার চালাতে এখন দিনমজুরি করতে হচ্ছে। খাল খনন হলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর মুখে বাঁধ নির্মাণ করায় পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নামা পানি বিলে আটকা পড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিনে বিলজুড়ে কচুরিপানা ও পলি জমে এটিএখন প্রায় মৃত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
এতে শুধু কৃষিই নয়, মাছসহ জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে গড়াডোবা ইউনিয়নের শাখরা, চিকনি, কালেঙ্গা, পুবাইল ও বিদ্যাবল্লভ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মাছ চাষে ঝুঁকলেও খালের মুখ বন্ধ থাকায় হঠাৎ পানি বেড়ে ঘের তলিয়ে গিয়ে লোকসানের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে প্রায় ৮০০ মিটার খাল খনন করলেও এখনো প্রায় ১ কিলোমিটার অংশ খনন বাকি রয়েছে। এই অংশ খনন সম্পন্ন না হলে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কৈজুরি খালটি খনন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে খালটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি ১৯৮৩ সালের ভূমি জরিপ নকশায় খালটির অস্তিত্ব না থাকায় সরকারি উদ্যোগ গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য স্বপন তালুকদার বলেন,
“ভূমি জরিপ নকশায় খালটির অস্তিত্ব না থাকায় সরাসরি কোনো প্রকল্প নেওয়া যাচ্ছে না। তবে খালটি পুনঃবহালের দাবি উঠেছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, খালটি জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা না হলে পুরো এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা সরকারি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বললেন যদি সিএস CS /RY আরোয়ার যদি তাকে তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিব আর যদি না থাকে তাহলে এলাকাবাসীর স্বার্থে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে
Leave a Reply