
*দেশ বদলাতে চাই, কিন্তু নিজেকে বদলাই না—মাহামুদুল*
দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের বুলি নয়—আচরণেই তার প্রকৃত প্রমাণ দিতে হয়। নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রতিটি ছোট কাজই একটি দেশের সামগ্রিক চিত্র গড়ে তোলে।
প্রবাসে আমরা আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। একটি পানির বোতল ফেলতেও ডাস্টবিন খুঁজি, ময়লা ফেলতে দূরে হাঁটতেও আপত্তি করি না। ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না—কারণ আমরা জানি, নিয়ম ভাঙলে শাস্তি অবধারিত এবং সামাজিক সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়।
কিন্তু দেশে ফিরলেই সেই চিত্র পাল্টে যায়। আইন যেন অদৃশ্য হয়ে পড়ে, দায়িত্ববোধ হয়ে যায় গৌণ। আমরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলি, অনায়াসে ট্রাফিক আইন ভাঙি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাই। যেন এই দেশ আমাদের নয়, এর প্রতি আমাদের কোনো দায়ও নেই।
এই দ্বিচারিতার মূল কারণ আমাদের মানসিকতা। আমরা আইনকে সম্মান করি না, বরং শাস্তির ভয়ে তা মেনে চলি। ফলে যেখানে কঠোর নজরদারি নেই, সেখানেই আমরা দায়িত্বহীন হয়ে পড়ি। এ মনোভাব একটি জাতির অগ্রগতির পথে বড় বাধা।
দেশ নিয়ে আবেগ প্রকাশ করা সহজ, উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাও সহজ। কিন্তু বাস্তব উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন প্রতিটি নাগরিক নিজের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবে।
অতএব, সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। দেশ বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। কারণ সমস্যার উৎস যেমন আমরা, তেমনি সমাধানের পথও আমাদের মধ্যেই নিহিত।
*লেখক: মাহামুদুলপরিচিতি: সচেতনতা কর্মী, প্রকাশক ও সামাজিক সংগঠক*
Leave a Reply