1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

‎যাদুকাটায় মাঝরাতে অবৈধ ড্রেজার উৎসব: এমপির হুঁশিয়ারি কি তবে ‘কাগুজে বাঘ’?

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহিরপুর | ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • Update Time : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ Time View

‎যাদুকাটায় মাঝরাতে অবৈধ ড্রেজার উৎসব: এমপির হুঁশিয়ারি কি তবে ‘কাগুজে বাঘ’?

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহিরপুর | ৬ এপ্রিল, ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল নির্বাচনের পর হুঙ্কার দিয়েছিলেন— “যাদুকাটা নদীর পাড় কাটার সাথে যদি আমার আব্বাও জড়িত থাকে, তবুও অ্যাকশন হবে।” এমপির এমন কঠোর অবস্থানে বুক বেঁধেছিলেন নদীপাড়ের মানুষ। কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদল অসাধু চক্র প্রতি রাতে যাদুকাটা নদী ও এর পাড় ধ্বংসের এক মহোৎসবে মেতেছে।

‎সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, তাহিরপুরের কোনাটচড়া এলাকায় রাতের অন্ধকার নামলেই শুরু হয় দানবীয় ড্রেজার মেশিনের গর্জন। প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বালু উত্তোলন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি রাতে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর পাড় কাটা হচ্ছে। মেশিনের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে; বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের অবস্থা চরম শোচনীয়।

‎এমপির নিষেধাজ্ঞা ও ‘অদৃশ্য’ প্রশাসনিক নীরবতা

‎মাননীয় সংসদ সদস্য যাদুকাটা নদীতে সব ধরণের ড্রেজার চালানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এমপির নাম ভাঙিয়েই স্থানীয় কিছু অসাধু নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর ক্ষুব্ধ প্রশ্ন—

‎”এমপি সাহেবের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরেও কীভাবে একদল লোক এই দুঃসাহস দেখায়? যাদুকাটা নদীর পাহারায় নিয়োজিত টহলকারী পুলিশ কি তবে ঘুমিয়ে থাকে, নাকি তাদের মৌন সম্মতিতে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে?”

‎বেপরোয়াভাবে পাড় কাটার ফলে যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ঘরবাড়ি ও শত শত একর কৃষি জমি প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে ড্রেজার চলতে থাকলে অচিরেই মানচিত্র থেকে কোনাটচড়া ও এর আশপাশের জনপদ হারিয়ে যাবে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, এই অবৈধ ড্রেজার অবিলম্বে বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে যেকোনো জানমালের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকেই বহন করতে হবে।

‎সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে কামরুজ্জামান কামরুল ‘হাওরের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি— তিনি যেন নিজের অর্জিত সুনামের প্রতি সুবিচার করেন। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই নদীখেকো ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাদুকাটা নদীকে রক্ষা করবেন— এটাই এখন আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Design By BDit.com.bd