
মাগুরায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একটি মহিলা মাদ্রাসায় ভাঙচুর, চরম ক্ষতির মুখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
নিজস্ব প্রতিনিধি
পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে হযরত হালিমাতুস সাদিয়া(রা) মহিলা মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চরম ক্ষতি হয়েছে এবং অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মাগুরা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ছোট আবালপুর গ্রামে রবিবার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহার দশ দিন আগে লিচুর গাছ থেকে লিচু পাড়া নিয়ে মোঃ ইজারোত বিশ্বাস (৭২)ও একই এলাকার মোঃ দাউদ হোসেন এর ছেলে ইব্রাহিম(২২)এর সাথে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং উভয়ের মধ্যেই হাতাহাতি হয়। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
ইজারোত বিশ্বাসের ছেলে জাহিদ বিশ্বাস জানান, আমরা ৪ ভাই কেউ আমরা বাড়িতে থাকি না আমরা ঈদে বাড়িতে আসছি, আমার বাবার সাথে যে ঝামেলাটা হয়েছিল সেই বিষয়টি ইব্রাহিম এর কাছে জানতে চাওয়ার জন্য তার কাছে যাই তার কাছে ঘটনাটি জানতে চাওয়ায় সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যেই মারামারি সৃষ্টি হয় এতে আমি ও ইব্রাহিমের বাবা দাউদ দুজনেই আহত হয়। এক পর্যায়ে এলাকার অন্যান্য লোকজন ঠেকিয়ে দিলে আমরা বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে আসার পরে দেখতে পাই দাউদের ছেলে ইব্রাহিম সহ বেশ কিছু লোকজন লাঠিসটা, রামদা ও কোরাল নিয়ে এসে আমাদের উপর আক্রমণের চেষ্টা চালায় আমরা বাড়ির ভিতরের থাকায় গেট দিয়ে ঢুকতে না পারায় আমাদের জমিতে থাকা একটি মহিলা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায়। এবং আমি চিকিৎসা নিতে মাগুরাতে যাওয়ার সময় তাদের কিছু লোক ইজিবাইকে আমাদের দেখে আমার ও আমার বউ এর উপর আক্রমণ চালাই। সেখান থেকে কোনরকম আমরা বেঁচে ফিরি। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
হযরত হালিমাতুস সাদিয়া (রা) মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ হাফেজ-মাওলানা-ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন বলেন, এই জমিটি আমি মোঃ ইজারোত বিশ্বাসের কাছ থেকে লিচ নিয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানটি করেছি, দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব থাকলেও আমার সাথে দুই পক্ষের কারোরি কোন দ্বন্দ্ব নাই কিন্তু তারা আমার প্রতিষ্ঠানটির চারপাশের টিনের বেড়া ও দরজা সবকিছু কুপিয়ে তছনছ করেছে, তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার সকল ছাত্রীরা ঈদুল আযহার ছুটিতে রয়েছে এখানে যদি কোন ছাত্রী থাকতো তাহলে অবশ্যই তারা আতঙ্কিত হতো এমনকি তারা আমার প্রতিষ্ঠানে আর থাকত না। সবমিলে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং আমি আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছি। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত সঠিক তদন্ত করে সকলকেই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। এবং আমার অর্থনৈতিকভাবে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
মাগুরা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আল মামুন,বলেন এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply