1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

অভিযোগের ১৫ মাস পেরোলেও তদন্তের অগ্রগতি নেই

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৯৯ সময়

Writing

অভিযোগের ১৫ মাস পেরোলেও তদন্তের অগ্রগতি নেই

২১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের পর চাকরিচ্যুতির অভিযোগে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (খণ্ডকালীন) মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ এনে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের প্রায় ১৫ মাস অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রতিকার বা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসা মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক তাকে কোনো প্রকার ন্যায্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই পাঠদান কার্যক্রম থেকে বিরত রাখেন এবং পরবর্তীতে চাকরি থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন।

তবে অভিযোগের দীর্ঘ সময় পরও কার্যকর কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তদন্ত হোক। আর যদি অন্যায়ভাবে আমাকে চাকরি থেকে সরানো হয়ে থাকে, তাহলে তারও বিচার হওয়া উচিত।”

এদিকে সম্প্রতি জেলা শিক্ষা অফিস, কিশোরগঞ্জের একটি সরকারি পত্রে বিষয়টির সত্যতা উঠে এসেছে। ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় যে, মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পত্র প্রেরণ করেছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ দায়েরের এক বছরেরও বেশি সময় পর কেন নির্দেশনা চেয়ে পত্র পাঠানো হলো? এবং পত্র পাঠানোর পরও কেন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা বা দাপ্তরিক ধীরগতি যাই থাকুক না কেন, একজন শিক্ষকের পেশাগত জীবন ও সম্মানের সঙ্গে জড়িত বিষয় এত দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে শুধু একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন না, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক যদি তার অধিকার আদায়ের জন্য বছরের পর বছর সরকারি অফিসে ঘুরতে বাধ্য হন, তাহলে এটি শিক্ষা প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক আরও বলেন, “আমি আমার জীবনের ২১টি বছর এই বিদ্যালয়ের জন্য ব্যয় করেছি। শিক্ষার্থীদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি। অথচ আজ আমি ন্যায়বিচারের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি। আমার সম্মান, পেশা এবং ভবিষ্যৎ সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।”

তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাকে ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার দেওয়া হোক।

এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

একজন শিক্ষক, ২১ বছরের কর্মজীবন, একটি অভিযোগ এবং ১৫ মাসের অপেক্ষা। এখন দেখার বিষয়, ন্যায়বিচারের এই অপেক্ষার অবসান কবে হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd