1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়: কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল

মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৭ সময়

অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়: কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও প্রায় ৬১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নিরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি অডিটে আপত্তি উত্থাপিত হওয়া কোনোভাবেই চূড়ান্তভাবে দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ নয়। এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।
সরকারি অডিট ব্যবস্থায় নিরীক্ষকরা কোনো ব্যয়, কাজের ধরন বা নথিপত্রে অসঙ্গতি দেখতে পেলে প্রথমে অডিট আপত্তি উত্থাপন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব, প্রকল্পের নথি,বিল-ভাউচার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র দাখিল করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়ে যায় অথবা সংশোধিত সিদ্ধান্ত আসে। ফলে অডিট আপত্তিকে চূড়ান্ত দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হলেও তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, অডিট আপত্তিগুলো এখনো দাপ্তরিক নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি কোনো একক কর্মকর্তার বিষয় নয়; প্রকল্প বাস্তবায়ন, অনুমোদন, বিল পরিশোধ এবং তদারকির সঙ্গে একাধিক দপ্তর ও কর্তৃপক্ষ সম্পৃক্ত থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা, প্রাক্কলন অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, তদারকি, বিল যাচাই এবং অর্থ পরিশোধের প্রতিটি ধাপে একাধিক কর্মকর্তা ও কমিটির সম্পৃক্ততা থাকে। ফলে কোনো প্রকল্পে অডিট আপত্তি উঠলেই তার সম্পূর্ণ দায় এককভাবে কোনো কর্মকর্তার ওপর বর্তায়, এমন সিদ্ধান্ত তদন্ত ও নিষ্পত্তির আগে দেওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে অডিট আপত্তি একটি স্বাভাবিক বিষয়। প্রতিবছর বিভিন্ন পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে নিরীক্ষা আপত্তি উত্থাপিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ আপত্তিই ব্যাখ্যা ও নথিপত্রের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়। তাই অডিট আপত্তিকে আদালতের রায় বা দুর্নীতির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
আইনজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্ত, শুনানি এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অডিট আপত্তির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত নিষ্পত্তি যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রচার না করে, তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও সুশাসনের দাবি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অডিট কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অডিট আপত্তির নিষ্পত্তির আগেই কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত না করে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই হবে ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd