সরাইলে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার সন্দেহভাজনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার
মোঃআব্বাসউদ্দিন: প্রতিনিধি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল
হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনল সরাইল থানা পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে পরিচালিত ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে সরাইল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে পূর্ব কুট্টাপাড়া এলাকার বহুল আলোচিত জিহাদ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন, দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, একটি রাজনৈতিক মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ সরাইল থানা সূত্রে জানা যায়, অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে থানা পুলিশের একাধিক টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যা, মাদক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন হলেন বাবুল মিয়া প্রকাশ বাবলু (৩২)। তিনি ধন মিয়ার ছেলে এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গুগদ) গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সরাইল থানার মামলা নং-২০, তারিখ ১৩ জুলাই ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তাকে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ বখতিয়ার আলম গ্রেপ্তার করে। বিশেষ অভিযানে পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমেন মিয়া (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বড়ইচারা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সরাইল থানার মামলা নং-২৫, তারিখ ১৮ মে ২০২৬-এ সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬/৭/১০ ধারায় মামলা রয়েছে। তাকে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ফারুক আহমদ গ্রেপ্তার করেন। পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (৫৮) এবং ডালিম (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নুর ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলার পরোয়ানা ছিল। একটি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের ৪/৫ ধারা, অপরটি পেনাল কোডের ১৪৩/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা মামলা। তাকে এএসআই (নিরস্ত্র) সুমন মিয়া গ্রেপ্তার করেন। অন্যদিকে, শাহজাদাপুর এলাকার বাসিন্দা ডালিম-এর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় দায়ের করা মামলার পরোয়ানা ছিল। তাকে এএসআই (নিরস্ত্র) আলমগীর হোসেন গ্রেপ্তার করেন। মাদকবিরোধী অভিযানে চুন্টা ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) এবং বড়াইল এলাকার সন্তোষ দেবগুপ্ত প্রকাশ মিঠু (৫০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সরাইল থানা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত সরাইল থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, মাদক, সন্ত্রাস, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলমান থাকবে। পুলিশের মতে, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরাইল থানা পুলিশ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।