কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নে পৈত্রিক জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে মো. রবিন মিয়া (যুবক) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি-লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
আহত রবিন মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মো. মুর্শিদ মিয়া এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে তিনি পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হামলার অভিযোগ করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিন মিয়া তার পৈত্রিক জমিতে কাজ করতে গেলে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধারালো দা, রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা রবিন মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার বাম হাত ও ঘাড়ে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে আরও মারধর করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রবিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহত রবিন মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।
আহতের বাবা মো. মুর্শিদ মিয়া অভিযোগ করেন, পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তার ছেলের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।