মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ জন গ্রেপ্তার, পুলিশের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত আসামির অভিযোগ
শরিফুল ইসলাম টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত ৪ আগস্ট মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বল্লা চকপাড়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে পুরা সালাম সম্প্রতি কালিহাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে পুলিশের দাবি, পুরা সালাম এলাকায় মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি এমন অভিযোগ করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিহাতী থানার এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ বল্লা এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২৩ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট বল্লা চকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুরা সালামকে মাদকসহ আটক করা হয়। পরে তাকে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা নতুন কিছু নয়। তবে অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসতে পারে। তবে কারও বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে কালিহাতী থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তবে মাদকবিরোধী আইনানুগ অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।