1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

‎বাগেরহাটে একই পরিবারের তিন সদস্য হত্যা: পরকীয়ার বলি হয়ে ঝরল তিন প্রাণ, গ্রেপ্তার ৩ ‎

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৫ সময়

‎বাগেরহাটে একই পরিবারের তিন সদস্য হত্যা: পরকীয়ার বলি হয়ে ঝরল তিন প্রাণ, গ্রেপ্তার ৩

‎

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট

‎

‎বাগেরহাটের কচুয়ায় পারিবারিক পরকীয়া ও বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎

‎বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। ৪ আগস্ট সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়, যার সূত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও স্থানীয় থানা পুলিশের একটি যৌথ দল দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসে।

‎

‎তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভিকটিম আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে মূল আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে ভিকটিম মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই সম্পর্কের জের ধরে জাহিদুলের নিজস্ব পারিবারিক জীবনেও অস্থিরতা দেখা দেয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জাহিদুল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার সহযোগীদের নিয়ে রাতারাতি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আসাদুল শেখের ঘর থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও আনুষঙ্গিক আলামত নিশ্চিত করছে যে, অপরাধীরা হত্যার পর তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, কারণ একটি তুচ্ছ পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

‎

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের দোষ স্বীকার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত আলামত এবং আসামিদের জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হবে যাতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি না থাকে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন, কারণ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই কোনো না কোনো সামাজিক অস্থিরতা কাজ করে যা আইনের শাসনের মাধ্যমে দমন করা জরুরি।

‎

‎এই হত্যাকাণ্ডের ফলে বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একটি পরিবারের তিন সদস্যকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক কাঠামোর অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও, এই ট্রিপল মার্ডারের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা নিরসনে কেবল আইনি ব্যবস্থা নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সঠিক নজরদারি ও দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই সফল অভিযান সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি। মামলার পরবর্তী ধাপে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে।

‎

‎

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd