1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

জীবনের শেষ প্রহরে চায়ের কেটলিই ভরসা — খুলনা মেডিকেল কলেজে হাবিব ফকির দম্পতির সংগ্রাম

মামুন হাচান বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১ Time View

জীবনের শেষ প্রহরে চায়ের কেটলিই ভরসা — খুলনা মেডিকেল কলেজে হাবিব ফকির দম্পতির সংগ্রাম

মামুন হাচান বিশেষ প্রতিনিধি

খুলনা: পিরোজপুর জেলার কাতুল্লে গ্রামের ৯০ বছরের মো. হাবিব ফকির এবং তার স্ত্রী জোহরা বেগম প্রতিদিন খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনে ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে জীবনের শেষ প্রহরে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। বয়সের ভার ও দারিদ্র্য তাদের ওপর প্রভাব ফেললেও তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

চার মেয়ের মধ্যে একমাত্র মেয়ে নাছিমা বাবা-মায়ের দেখাশোনা করেন, রান্না করেন এবং যতটা সম্ভব পাশে থাকেন। তবু কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হাবিব প্রায়ই বিছানায় পড়ে থাকেন। সকাল হলেই চিন্তা—কীভাবে ওষুধ ও খাবার সংগ্রহ করবেন।

যৌবনে পরিশ্রমী হাবিব ফকির পিরোজপুরের কাতুল্লে গ্রাম থেকে খুলনা এসেছিলেন জীবিকার তাগিদে। নিজের শ্রম ও পরিশ্রমকে ভরসা করেই ভাগ্য বদলের আশা করেছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ভাগ্য তাঁকে শুধু নিঃস্বতার কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে “আসমানী” নামেও ডাকে—একজন সৎ, পরিশ্রমী মানুষ, যে নিজের প্রতিটি দিনকে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ণ করে।

স্থানীয়রা জানান, “হাবিব চাচা ও জোহরা খালা দিন-রাত চা বিক্রি করেই সংসার চালান। বয়সের কারণে কাজ করতে কষ্ট হয়, তবু থেমে নেই তারা।”

হাবিব ফকির সরকারের কাছে মানবিক সহায়তা চেয়েছেন—“একটু জায়গা, একটু ঘর, একটু সহযোগিতা।” এই মানবিক আবেদন স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজের পথচারীরা প্রতিদিন দেখেন এক নিঃশব্দ সংগ্রামী দম্পতিকে, যাদের চোখে ক্লান্তি, কিন্তু হৃদয়ে টিকে থাকার জেদ অটুট। যৌবনের শক্তি আর নেই, বয়সের ভার নিতান্তই তাদেরকে দুর্বল করেছে, তবু আত্মমর্যাদার দীপ্তি এখনও অটুট।

হাবিব ফকির ও জোহরা বেগমের গল্প শুধু একটি দারিদ্র্যপ্রবণ দম্পতির সংগ্রামের নয়, এটি আমাদের সমাজের সহমর্মিতা, মানবিক দৃষ্টি এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ববোধের আহ্বান। তারা প্রমাণ করে, সাধ্যমতো বাঁচার লড়াই ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছা কখনও হাল ছাড়ে না।

এমন মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ছোট্ট চায়ের দোকান আর ফুটন্ত চায়ের কল্পনায় লুকিয়ে থাকা এই সংগ্রামী জীবনের গল্প যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবতার মাধুর্য ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কখনও কমে না। হাবিব ফকির ও জোহরা বেগমের সংগ্রাম আমাদের জন্য জীবন্ত শিক্ষণীয় উদাহরণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Design By BDit.com.bd