1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে গোপন যুদ্ধের পাঁয়তারায় ট্রাম্প- নেতানিয়াহুর ‘নীরব মিশন’- অস্তিত্ব সংকটে ইরান

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন
  • Update Time : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ০ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে গোপন যুদ্ধের পাঁয়তারায় ট্রাম্প-

নেতানিয়াহুর ‘নীরব মিশন’- অস্তিত্ব সংকটে ইরান!

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন এর আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিয়ে বিশেষ নিউজ প্রতিবেদন।

জানুয়ারি, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ইরানের বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত গোপনীয় ও সূক্ষ্ম ‘নীরব মিশন’ শুরু করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো, সরাসরি সম্মুখ সমরের চেয়েও ভয়াবহ উপায়ে ইরানকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।

নীরব মিশনের রূপরেখায় ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’:- বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এবার প্রথাগত যুদ্ধের চেয়ে ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ বা বহুমুখী সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। এই মিশনের আওতায় ইরানে একের পর এক রহস্যময় সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় চোরাগোপ্তা বিস্ফোরণ এবং শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড কিলিং চালানো হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি এবং নেতানিয়াহু সরকারের ‘অক্টোপাস ডকট্রিন’ এখন একবিন্দুতে মিলিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব চাইছে সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে না জড়িয়েই ইরানের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর গোপন আঁতাত:- ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি মার-আ-লাগোতে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার বিষয়ে চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।

** আমেরিকার ভূমিকা:- ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মতো পরিকল্পনার মাধ্যমে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার ছক আঁকা হচ্ছে।

** ইসরায়েলের লক্ষ্য:- অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সরকার সরাসরি ইরানের ভেতরে মোসাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ড্রোন কারখানা ও পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজগুলোকে লক্ষ্য করে ‘নীরব আঘাত’ হানছে, যার দায় তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না।

** অবরুদ্ধ ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি:- এই সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং আইআরজিসি (IRGC) কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ইরান ইতিমধ্যে তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালিয়ে পরাশক্তিগুলোকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং জনঅসন্তোষের কারণে তেহরান এখন ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে।

বিশ্ব রাজনীতির এখন সংকটাপূর্ণ:- রাশিয়া ও চীন এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই ‘গোপন উস্কানি’ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এমতাবস্থায়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ‘নীরব মিশন’ সফল হলে ইরানের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যেতে পারে, আর ব্যর্থ হলে শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ কোনো সংঘাত। পর্দার আড়ালে চলা এই দাবা খেলায় শেষ চালটি কে দেবেন, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Design By BDit.com.bd